Lunar.day

রাশিচক্রের ১২টি রাশি ও নক্ষত্রমণ্ডল: পার্থক্য কী

সংক্ষিপ্ত উত্তর: রাশিচক্রের রাশি — ৩০°-র ১২টি সমান খণ্ড, আর গ্রহণপথের নক্ষত্রমণ্ডল — ১৩টি। পার্থক্য ব্যাখ্যা করছি, তারিখের সারণি দিচ্ছি এবং বলছি কেন সূর্য নক্ষত্রমণ্ডলের সঙ্গে সঙ্গে «রাশি থেকে রাশিতে» «যায় না»।

আপডেট: ২ আগস্ট, ২০২৬3 মিনিট

রাশিচক্রের রাশি — রাশিফলের সবচেয়ে জনপ্রিয় শব্দ, তবে ঠিক এগুলো নিয়েই সবচেয়ে বেশি ভুল ধারণা আছে। «রাশি ১২টি, আর গ্রহণপথে নক্ষত্রমণ্ডল ১৩টি», «Ophiuchus বৃশ্চিককে বাতিল করে», «রাশির তারিখ নক্ষত্রমণ্ডলের সঙ্গে মেলে না» — কোথায় সত্য, তা দেখে নিই।

রাশিচক্রের রাশি — খণ্ড, নক্ষত্রমণ্ডল নয়

মূল পার্থক্য: রাশি — ৩০°-র গাণিতিক খণ্ড, আর নক্ষত্রমণ্ডল — আকাশের বাস্তব অঞ্চল। ৩৬০°-র পুরো গ্রহণপথ বৃত্ত ঠিক ১২টি অংশে ভাগ হয়। প্রতিটি অংশ একটি রাশিচক্রীয় নক্ষত্রমণ্ডলের নাম বহন করে, কারণ সেসব নক্ষত্রমণ্ডল সূর্যের পথে অবস্থিত।

নক্ষত্রমণ্ডল অবশ্য ভাঙা আকারের ও ভিন্ন ভিন্ন আয়তনের। একটি নক্ষত্রমণ্ডল ৫০° দখল করতে পারে, অন্যটি মাত্র ১০°। তাই «এক রাশি = একটি নক্ষত্রমণ্ডল» এমন সঠিক মিল নেই।

বারোটি রাশি ও তেরোটি নক্ষত্রমণ্ডল

আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান আকাশকে ৮৮টি নক্ষত্রমণ্ডলে ভাগ করে। গ্রহণপথ অতিক্রম করে সেগুলোর ১৩টি:

  • মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ, কন্যা, তুলা, বৃশ্চিক, Ophiuchus, ধনু, মকর, কুম্ভ, মীন।

ক্রান্তীয় স্কিমায় Ophiuchus-কে বিবেচনা করা হয় না: রাশি ঠিক ১২টি। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সীমানা আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়নের মান অনুযায়ী নেওয়া হয়, এবং সেখানে সূর্য «নক্ষত্রমণ্ডলে» থাকার তারিখগুলো সত্যিই জ্যোতিষ্কের অবস্থান প্রতিফলিত করে। এজন্যই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ক্যালেন্ডার কখনো কখনো শাস্ত্রীয় রাশিফলের সঙ্গে মেলে না।

সূর্য কখন «রাশিতে প্রবেশ» করে — খণ্ড অনুযায়ী

ক্রান্তীয় রাশিচক্রে রাশির সীমানা স্থির। সবচেয়ে প্রচলিত তারিখের সারণি:

রাশিসময়কাল (ক্রান্তীয়)
মেষ২১ মার্চ – ১৯ এপ্রিল
বৃষ২০ এপ্রিল – ২০ মে
মিথুন২১ মে – ২০ জুন
কর্কট২১ জুন – ২২ জুলাই
সিংহ২৩ জুলাই – ২২ আগস্ট
কন্যা২৩ আগস্ট – ২২ সেপ্টেম্বর
তুলা২৩ সেপ্টেম্বর – ২২ অক্টোবর
বৃশ্চিক২৩ অক্টোবর – ২১ নভেম্বর
ধনু২২ নভেম্বর – ২১ ডিসেম্বর
মকর২২ ডিসেম্বর – ১৯ জানুয়ারি
কুম্ভ২০ জানুয়ারি – ১৮ ফেব্রুয়ারি
মীন১৯ ফেব্রুয়ারি – ২০ মার্চ

এই তারিখগুলো বছরের পর বছর ১–২ দিন «ভাসে»।

নাক্ষত্রিক রাশিচক্রে একই তারিখ প্রায় ২৪° (ayanamsha) সরে যায়: ক্রান্তীয় পদ্ধতিতে যে রাশি মেষ ছিল, নাক্ষত্রিকে তা মীন হবে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তারিখগুলো রাশিতে ভাগই হয় না — কেবল নির্দেশ করা হয় সূর্য আসলে কোন নক্ষত্রমণ্ডলে আছে।

সাত গ্রহ + সূর্য ও চাঁদ প্রতিটি রাশি অতিক্রম করে

শুধু সূর্য নয় «ঘোরে» রাশিগুলোতে। চন্দ্র ক্যালেন্ডারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: চাঁদ প্রায় ২৭–২৮ দিনে পুরো বেল্ট অতিক্রম করে, অর্থাৎ প্রতিটি রাশিতে প্রায় ২.৩ দিন থাকে। তাই «চাঁদ বৃষে» প্রতি দুই-তিন দিনে বদলায়। গ্রহগুলো মাস বা বছর ধরে রাশি অতিক্রম করে — বুধ (কয়েক দিন) থেকে প্লুটো (বছর) পর্যন্ত।

পদ্ধতিগুলোর মধ্যে সীমানা

  • ক্রান্তীয় রাশিচক্র: ১২টি রাশি, বিষুবের সঙ্গে সম্পর্ক, সারণির মতো তারিখ।
  • নাক্ষত্রিক রাশিচক্র: ১২টি রাশি, তারার সঙ্গে সম্পর্ক, ayanamsha-তে সরণ।
  • জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক রাশিচক্র: নক্ষত্রমণ্ডলের প্রকৃত স্থানাঙ্ক অনুযায়ী ১৩টি অংশ।

সংক্ষিপ্তসার

রাশি — ১২টি, গ্রহণপথে নক্ষত্রমণ্ডল — ১৩টি, আর এটি কোনো ভুল নয়। রাশি — গণনার সুবিধার জন্য তৈরি সমান খণ্ড; নক্ষত্রমণ্ডল — আকাশের বাস্তব অঞ্চল। রাশিতে «প্রবেশের» তারিখ নির্বাচিত পদ্ধতির উপর নির্ভর করে। lunar.day-এ আপনি ক্রান্তিক, নাক্ষত্রিক ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সীমানা দেখতে পারেন এবং সবসময় বুঝতে পারেন এই মুহূর্তে বেল্টে চাঁদ কোথায় আছে।


আরও পড়ুন: রাশিচক্র কী, রাশিচক্র পদ্ধতির ধরন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

★

রাশিচক্র কী

সংক্ষিপ্ত উত্তর: রাশিচক্র হল গ্রহণপথ ধরে ৩০°-র ১২টি রাশির একটি বেল্ট, যার ভিতর দিয়ে সূর্য, চাঁদ ও গ্রহগুলো চলে। তিনটি পদ্ধতির বিশ্লেষণ: ক্রান্তীয়, নাক্ষত্রিক ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক।

3 মিনিটআপডেট: ১ আগ, ২০২৬

রাশিচক্র পদ্ধতির ধরন: ক্রান্তীয়, নাক্ষত্রিক ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক

সংক্ষিপ্ত উত্তর: রাশিচক্র তিন ধরনের — ক্রান্তীয় (বিষুব ও ঋতু অনুযায়ী), নাক্ষত্রিক (স্থির তারা অনুযায়ী, ayanamsha-র সরণসহ) এবং জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক (আইএইউ-এর নক্ষত্রমণ্ডলের প্রকৃত সীমানা অনুযায়ী)। তুলনামূলক সারণি ও কোনটি বেছে নেওয়ার ইঙ্গিত।

2 মিনিটআপডেট: ৩ আগ, ২০২৬

জ্যোতিষে ayanamsha কী

Ayanamsha — ক্রান্তীয় ও নাক্ষত্রিক রাশিচক্রের মধ্যে কোণের পার্থক্য (প্রায় ২৪°)। এটি দেখায় ঋতুভিত্তিক রাশির তুলনায় নাক্ষত্রিক রাশি কতটা সরে আছে। জনপ্রিয় ayanamsha-র তালিকাসহ সহজভাবে ব্যাখ্যা করছি।

2 মিনিটআপডেট: ৫ আগ, ২০২৬